| দর্শনীয় স্থান |
|
কালভৈরব
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার হিন্দু সম্প্রদায়ের গুরত্বপূর্ণ তীর্থস্থান মেড্ডার কালভৈরব মূর্তি। এটি বৃহত্তম শিবমূর্তি হিসেবেও বিখ্যাত। প্রায় দু’শ বছরর পূর্বে দুর্গাচরণ আচার্য নামক এক মৃত্তিকাশিল্পী স্বপ্নদ্রষ্ট হয়ে এটি প্রস্ত্তত করেছিলেন। কাল ভৈরব মন্দিরের স্থানটি সরাইলের বিখ্যাত জমিদার নূর মোহাম্মদ দান করেছিলেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহর প্রতিষ্ঠার পূর্বে মেড্ডা ছিল তিতাস তীরবর্তী বাজার। দূর্গাচরণ প্রথমে তিতাস পঞ্চবঢী মূলে মূতিটি স্থাপন করে পুজার্চনার ব্যবস্থা করেছিলেন। স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় পাক বাহিনী মুর্তিটি ভেঙ্গে ফেলে। পরবর্তীতে এটি পুনঃনিমার্ণ করা হয়।
ফারুকী পার্কের স্মৃতিসম্ভ
ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের দক্ষিণাংশে ফারুক পার্কে গঠন শৌকর্যে অতি মনোরম একটি শহীদ স্মৃতিসৌধ নির্মিত হয়েছে। কেউ কেউ মনে করেন সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধের পরেই বাংলাদেশে দ্বিতীয় উল্লেখযোগ্য স্মৃতিসৌধ এটা। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধেও মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসনের পর থেকে প্রায় চার লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ স্মৃতিসৌধের ভিত্তিপ্রস্ত্তর স্থাপন করেন কুমিল্লার পদাতিক ব্রিগেডের কমান্ডার ও উপ-অঞ্চল ১২র উপ-আঞ্চলিক সামরিক আইন প্রশাসক বিগ্রেডিয়ার আ ম সা আমিন পি এস পি ১৯৮৪ সালের ১৯শে মে। ১৯৮৫ সালের ২৯শে এপ্রিল প্রেসিডেন্ট ও চীফ মার্শাল ল’ এডমিনিস্ট্রেটর হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এনডিসি, পিএসসি এটা উদ্ধোধন করেন। শহীদ স্মৃতিসৌধটি অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি জাতীয় প্রকল্প এবং অতীব মনোরম একটি দর্শনীয় বস্ত্ত। তাই এটার অধিকারী হতে পেরে ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসী স্বাভাবিকভাবেই গর্বিত ও আনন্দিত। কিন্তু বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ব্রাহ্মণবাড়িয়া ইউনিট কমান্ড তথা ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের দেশপ্রেমিক সচেতন নাগরিকবৃন্দের প্রাণের দাবি ছিলঃ যুদ্ধকালে হানাদার বাহিনীর কাছ থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া মুক্তিযোদ্ধাগণ কর্তৃক অধিকৃত উভচর ট্যাঙ্কটিও, যা নাকি গোড়াতেই যুদ্ধজয়ের প্রতীক হিসাবে এখানে স্থাপিত হয়েছিল, এখানে এই ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের বুকেই স্বাধীনতা যুদ্ধ জয়ের গৌরবময় স্মৃতি হিসাবে যুগ যুগ ধরে বিরাজমান থাকুক, অনুপ্রেরণা যুগিয়ে যাক জেলাবাসীর ভবিষ্যৎ বংশধরদের প্রাণে। কিন্তু ১৯৮৩ সালের ১৩ই জুন ট্যাঙ্ক চলে যায় কুমিল্লা সেনানিবাসে। তারপরও ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসীকে নৈরাশ্য গ্রাস করতে পারে নি। তাঁরা আশা করছেন, ট্যাঙ্ক আবার তার সাবেক বেদীতে পুনঃস্থাপিত হবে নবনির্মিত শহীদ স্মৃতিসৌধের পাশে স্থানলাভ করে ধারণ করবে যুগল শহীদস্মৃতি রূপ।
সৌধ হীরন্ময়
১৯৭১ সালের ৫ই ডিসেম্বরের বুদ্ধিজীবী হত্যায় নির্মমভাবে নিহত, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ডিগ্রী কলেজের বাণিজ্য বিভাগের অধ্যাপক লুৎফুল রহমান (জাহাঙ্গির) ও মৃত্যুঞ্জয়ী অন্য বুদ্ধিজীবীদের স্মরণে কাউতলীস্থ ত্রিভুজচত্বরে ‘সৌধ হিরন্ময়’ নামে একটি স্মৃতিবেদী নির্মাণের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। ১৯৯৬ সালের ২৪শে নভেম্বর জেলা প্রশাসক এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। উল্লেখ্য, কাউতলীর গোরস্তানে অধ্যাপকের সমাধির পরিচয়-ফলকে তাঁর জন্ম তারিখ ১১ই অক্টোবর, ১৯৩৭ ও মৃত্যু তারিখ ৬ই ডিসেম্বর, ১৯৭১ এবং ‘‘নয়ন সমুখে তুমি নাই নয়নের মাঝখানে নিয়েছ যে ঠাঁই।’’ লিপিবদ্ধ রয়েছে।
হাতীর পুল
ঢাকা সিলেট বা কুমিল্লা সিলেট রোডের সংলগ্ন স্থানে অর্থ্যাৎ সরাইল থানার বারিউরা নামক বাজারের প্রায় একশত গজ দূরে ইট নির্মিত একটি উঁচু পুল বিদ্যমান। পুলটি সংস্কার করার ফলে এখন অনেক বেশি আকর্ষণীয়। বাংলাদেশে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর থেকে পুলটিকে সংস্কার ও সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পুলটির হাতির পুল নামে পরিচিত। দেওয়ান শাহবাজ আলী সরাইলে দেওয়ানী লাভের পর বর্তমানে শাহবাজপুরে তাঁর কাচারী প্রতিষ্ঠা করেন। শাহবাজ আলী সরাইলের বাড়ী এবং শাহবাজপুর যাতায়াতের জন্য সরাইল থেকে শাহবাজপুর পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণ করেছিলেন। রাস্তাটি ১৬৫০ খ্রিঃ দিকে নির্মিত হয়েছিল বলে অনুমান করা হয়। উক্ত রাস্তাটি পরিত্যক্ত অবস্থায় কুট্টা পাড়ার মোড় থেকে শাহবাজপুর পর্যন্ত এখনও টিকে আছে। রাস্তাটিকে স্থানীয়রা জাঙ্গাল বলে থাকে। দেওয়ান শাহবাজ আলী এবং হরষপুরের জমিদার দেওয়ান নুরমোহাম্মদের সঙ্গে আত্মীয়তার সর্ম্পক ছিল বলে অনেক ঐতিহাসিক মত প্রকাশ করে। ফলে উভয় পরিবারের যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে উক্ত জাঙ্গালটি ব্যবহৃত হতো বলে মনে করা হয়। উক্ত জাঙ্গালটির উপরে পুলটি অবস্থিত। শুধু মাত্র হাতির পিটে চড়ে দেওয়ানদের চলাচল আবার কথিত আছে পুলটির গোড়ায় হাতি নিয়ে বিশ্রাম দেওয়া হতো বলে পুলটিকে হাতির পুল নামে অভিহিত করা হয়। পুলটির গায়ে অপূর্ব সুন্দর কারুকার্য করা ছিল। সংস্কারের সময কিছু কারুকার্য নতুন করে তৈরী করা হয়েছে। জাঙ্গাল এবং হাতির পুলের পাশ দিয়ে বর্তমান ঢাকা সিলেট ও চট্টগ্রাম সিলেট রোড চলে গেছে। সরাইল হরষপুর জাঙ্গাল দিয়ে কবে থেকে লোক চলাচল বন্ধ হয়ে যায় তা সঠিকভাবে জানা যায়নি। হাতির পুলের নীচে দিয়ে ইংরেজ আমলেও নৌকা চলাচল করত বলে জানা যায়।
কেল্লা শহীদ মাজার
আখাউড়ার খড়মপুরে অবস্থিত হজরত সৈয়দ আহম্মদ (রঃ) এর দরগাহ যা কেল্লা শহীদের দরগাহ নামে সমগ্র দেশে পরিচিত। কেল্লা শহীদের দরগাহ সর্ম্পকে যে কাহিনী প্রচলিত আছে তা হচ্ছে এই যে, সে সময় খড়ম পুরের জেলেরা তিতাস নদীতে মাছ ধরত। একদিন চৈতন দাস ও তার সঙ্গীরা উক্ত নদীতে মাছ ধরার সময় হঠাৎ তাদের জালে একটি খন্ডিত শির আটকা পড়ে যায়। তখন জেলেরা ভয়ে ভীত হয়ে পড়ে এবং খন্ডিত শিরটি উঠাতে গেলে আল্লাহর কুদরতে খন্ডিত শির বলতে থাকে ‘‘একজন আস্তিকের সাথে আর একজন নাস্তিকের কখনো মিল হতে পারে না। তোমরা যে পর্যন্ত কলেমা পাঠ করে মুসলমান না হবে ততক্ষণ আমার মস্তক স্পর্শ করবে না।’’ খন্ডিত মস্তকের এ কথা শুনে মস্তকের কাছ থেকে কলেমা পাঠ করে চৈতন দাস ও সঙ্গীরা হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে মুসলমান হয়ে যায়। মস্তকের নির্দেশ মোতাবেক ইসলামী মতে খড়ম পুর কবরস্থানে মস্তক দাফন করে। ধর্মান্তরিত জেলেদের নাম হয় শাহবলা, শাহলো, শাহজাদা, শাহগোরা ও শাহরওশন। তাঁরাই এ দরগাহের আদিম বংশধর। এই দরগাহের খ্যতি ধীরে ধীরে চর্তুদিঁকে ছড়িয়ে পড়ে। এ থেকেই শাহ পীর সৈয়দ আহম্মদ গেছুদারাজ ওরফে কেল্লা শহীদের পবিত্র মাজার শরীফ নামে পরিচিতি লাভ করে। ২৬০ একর জমির উপর প্রতিষ্ঠিত দরগা শরীফের জায়গা তৎকালীন আগরতলা রাজ্যের মহারাজা দান করেন। বিভিন্ন ঐতিহাসিকগণ অনুমান করেন যে, আওলিয়া হজরত শাহ জালাল (রঃ) এক সঙ্গে সিলেটে যে ৩৬০ জন শিষ্য এসেছিলেন হজরত সৈয়দ আহম্মদ গেছুদারাজ ছিলেন তাঁদের অন্যতম। তরফ রাজ্যেও রাজা আচক নারায়নের সঙ্গে হজরত শাহজালালের প্রধান সেনাপতি হজরত সৈয়দ নাসিরউদ্দিন যে যুদ্ধ পরিচালনা করেন সে যুদ্ধে হজরত সৈয়দ আহম্মদ গেছুদারাজ শহীদ হন এবং তাঁর মস্তক তিতাস নদীর স্রোতে ভেসে আসে। প্রতি বছর ওরসে কেল্লা শতীদের মাজারে হাজার হাজার মানুষের সমাগম হয়।
গঙ্গাসাগর দিঘী
অতীতে নৌ-পথের গুরুত্ব যখন অধিক ছিল, তখন হাওড়া নদীর তীরবর্তী গঙ্গাসাগর ছিল মূলত আগরতলার নদী-বন্দরস্বরূপ। গঙ্গাসাগরের পূর্বনাম ছিল রাজদরগঞ্জ বাজার। এ বাজার তৎকালীন সময়ের বিশিষ্ট ব্যাংক ‘দি এসোসিয়েটেড ব্যাংক লিঃ অফ ত্রিপুরা’র প্রধান অফির স্থাপিত হয়েছিল। তখনো উপমহাদেশে ব্যাংকের প্রচলন সঠিকভাবে হয়নি। এ অবস্থায় একটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের প্রধান অফিস স্থাপনা উল্লেখিত স্থানের ঐতিহাসিকতাকেই উজ্জ্বল করে বৈকি। তাছাড়া ত্রিপুরা রাজ্যের ভাটি অঞ্চলের খাজনা আদায়ের মহল অফিসও এ রাজদরগঞ্জ বাজারেই ছিল। রাজদরগঞ্জ বাজারের পরবর্তী নাম মোগড়া বাজার। এখানে ‘সেনাপতি বাড়ি’ নামে একটি জায়গা আছে। তাই মনে করা হয়ে থাকে যে, ত্রিপুরা-রাজ্যের কোন এক সেনাপতি এখানে বসবাস করতেন স্থায়ী অথবা অস্থায়ীভাবে। ত্রিপুরা-রাজ্য এখানে একটি বিরাট দীঘি খনন করান। গঙ্গা দেবীর নামানুষারে দীঘির নামকরণ করেন ‘গঙ্গাসাগর দীঘি’। সেই থেকেই জায়গাটির নাম গঙ্গাসাগর হয়।
উলচাপাড়া মসজিদ
ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের দক্ষিণে পশ্চিম পাশে উলচাপাড়া গ্রামে উঁচু একটি ভিত্তি বেদীর পশ্চিম প্রাত্মদেশে এই মসজিদ অবস্থিত। আয়তন ৫৩ x ২২ ফুট। দেওয়াল ৪ ফুট পুরু। ভিতরে অতি সুন্দর কারুকাজ। প্রধান গম্বুজের কেন্দ্র থেকে কয়েক ফুট নিচ পর্যন্ত অপূর্ব কারুকাজ। এমন স্থাপত্যকৌশল অন্য কোন মসজিদে দেখা যায় না। ভিতরে দেয়ালের সাজও অতি সুন্দর। ফরাসী ভাষায় একটি শিলালিপি উৎকীর্ণ আছে। তবে তা পাঠোদ্বার করা যায় না।
কাজী মাহমুদ শাহ (রহ) মাজার
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদরের কাজী পাড়ায় হযরত কাজী মাহমুদ শাহ’র মাজার অবস্থিত। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাম করণের সঙ্গে হযরত কাজী মাহমুদ শাহর একটি ঘটনার বর্ণনা পাওয়া যায়। এক সময় এখানে অনেক ব্রাহ্মণদের আবাস ভূমি ছিল। তিনি ধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে এখানে আগমন করে ব্রাহ্মণদেরকে বেড়িয়ে যেতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেই থেকে এলাকার নাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া হয় বলে একটি মতবাদ আছে। তাঁর নামানুসারে কাজীপাড়া প্রসিদ্ধি অর্জন করে। জাঁক-জমকের সঙ্গে তাঁর ওরশ উদযাপন করা হয়।
ছতুরা শরীফ
কসবা উপজেলার ছতুরা গ্রামে অবস্থিত হজরত আব্দুল খালেক সাহেবের মাজার। হজরত আব্দুল খালেক সাহেব আরবী ও ইংরেজী ভাষায় এম, এ পাশ ছিলেন। তিনি সেরাজুল সালেকিন ও সেরাজুল মুরসালিন নামে দু’খানি মূল্যবান গ্রস্থ রচনা করেন। তাঁর নাম অনুসারে ছতুরা গ্রামের নাম করা হয়েছে ছতুরা শরীফ।
নাটঘর মন্দির
নবীনগর থানার নাটঘর গ্রামে একটি শিবমন্দির রয়েছে। তিনশ’ বছরেরও অধিককাল আগে গ্রামেরই একটি পুকুর খননকালে একটি শিবমূর্তি পাওয়া যায় এবং এ বিগ্রহের মাধ্যমেই শিবমন্দির প্রতিষ্ঠ করা হয়। কালো পাথরে তৈরী পাঁচ ফুট উচ্চতাবিশিষ্ট এ বিগ্রহের বিশেষত্ব এই যে, এটি দ্বাদশভোজ এবং অন্যান্য সামগ্রীর মধ্যে বাঁশী ও সুদর্শন চক্রও ধৃত রয়েছে। অথচ হিন্দু শাস্ত্রে মুরলীধর বলতে একমাত্র কৃষ্ণকেই বোঝায় এবং সুদর্শনচক্র বিষ্ণুর। অন্যান্য হাতে রয়েছে ত্রিশূল, গদা, ডুগডুগি ইত্যাদি। এ মন্দিরটিকে কেন্দ্র করে প্রতি বছর শিব চতুর্দশীর পুণ্য তিথিতে ভক্ত-পুণ্যার্থীদের সমাগমে তিনদিনব্যাপী এক বিরাট মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে।
বিদ্যাকুট সতীদাহ মন্দির
নবীনগর উপজেলার ইতিহাস প্রসিদ্ধ বিদ্যাকুট গ্রামের একটি স্থান। স্থানটি গ্রামের মাঝখানে অবস্থিত। স্থানটি ভুতুড়ে বাড়ির মত নির্জন একটি জায়গা। এখানে অবস্থিত প্রায় দুই শতাধিক বছরের পুরাতন জীর্ণ একটি মন্দির। মন্দিরটির নাম সতীদাহ মন্দির। এটি নির্মাণ করেছিলেন বিদ্যাকুটের প্রসিদ্ধ হিন্দু দেওয়ান বাড়ির লোক দেওয়ান রাম মানক। এদেশে হিন্দু সমাজে সতীদাহ প্রথা চালু ছিল। স্বামী মারা গেলে স্ত্রীকে মৃত স্বামীর সঙ্গে জীবন্ত দাহ করা হত। কোন কোন ক্ষেত্রেই সদ্য বিধবারা স্বেচ্ছায় মৃত্যু বরণ করত। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বলপূর্বক দাহ করা হত। জীবন্ত সতী নারীর চিৎকার যেন না শুনা যায় সে জন্য খুব জোরে ঢাক এবং বাদ্য যন্ত্র বাজানো হত। হিন্দু সমাজের এই অমানবিক এবং বীভৎস প্রথা ১৮২৯ সনে লর্ড উইলিয়াম বেনটিংক আইন করে বন্ধ করে দেন। লর্ড বেনটিংক কর্তৃক সতীদাহ নিষিদ্ধ ঘোষণার পর ভারতের অন্যান্য স্থানের মত ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়ও এ প্রথা বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু ১৮৩৫ সনে রাম মানিকের মাতাকে এই সতীদাহ মন্দিরটিতে সর্বশেষ সতীদাহ বরণ কারিণীর শ্বেত পাথরের একটি নাম ফলক বসানো ছিল। গত স্বাধীনতা যুদ্ধেও সময় এটি বিনষ্ট হয়। বর্তমানে বিদ্যাকুটে তাদের বংশধরেরা না থাকায় সেই সতী নারীর নাম জানা যায়নি।
|